উপমহাদেশে বণিকদের আগমন
জলপথ আবিষ্কার
স্থলপথে দুর্গম এলাকা পাড়ি দিয়ে ভারতবর্ষে বাণিজ্য করা ইউরোপীয় বণিকদের জন্য ২. ছিল কষ্টসাধ্য। তাই ইউরোপীয় বণিকগণ ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কারে সচেষ্ট। ছিলেন। ১৪৮৭ সালে পর্তুগিজ নাবিক ‘বার্থোলোমিউ দিয়াজ’ আফ্রিকার উত্তমাশা। অন্তরীপ হয়ে পূর্বদিকে আগমনের জলপথ আবিষ্কার করেন। ১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ। নাবিক ভাস্কো-দা-গামা উত্তমাশা অন্তরীপের পথ ঘুরে ভারতের কালিকট বন্দরে আগমন! করেন।
পর্তুগিজদের আগমন
১৫১০ সালে সর্বপ্রথম পর্তুগিজরা (পর্তুগালের অধিবাসী) ভারতবর্ষে আগমন। করেন। বাংলাদেশে পর্তুগিজগণ ফিরিঙ্গি নামে পরিচিত। ১৫১৭ সালে তারা বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে চট্টগ্রাম ও সপ্তগ্রামে। ভারতের প্রথম পর্তুগিজ ভাইসরয়! ছিলেন ফ্রান্সিককো ডি আলমিডা।
৪. ইংরেজরা ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে
প্রায় একশত বছর উপমহাদেশের বিভিন্ন অংশে তাদের বাণিজ্য একচেটিয়া ছিল। তারা কালিকট, গোয়া, দমন, দিউ, হুগলি, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে বাণিজ্যকুঠি ও। উপনিবেশ স্থাপন করে। তারা ভারতবর্ষে লোকদের উপর অত্যাচার করত, ডাকাতি। করত এবং বলপূর্বক লোকদের খ্রিষ্টানধর্মে দীক্ষিত করত। এজন্য মুঘল সম্রাট! তাদের অধিকাংশ কুঠি নষ্ট করে দেয়। পর্তুগিজ জলদস্যুদের বলা হয় ‘হার্মাদ’। এ শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত।
ওলন্দাজদের আগমন
ইউরোপের নেদারল্যান্ড দেশের লোকেরা ওলন্দাজ বা ডাচ নামে পরিচিত। ১৬০২! সালে তারা ‘ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে। তারা মাদ্রাজে ও পশ্চিমবঙ্গে কুঠি নির্মাণ করে। ইংরেজগণ তাদের অধিকৃত স্থানগুলো দখল করে নিলে তারা এই উপমহাদেশ হতে সরে পড়ে।
দিনেমারগণের আগমন
ইউরোপের ডেনমার্ক দেশের অধিবাসীদের দিনেমার বলা হয়। দিনেমারগণ ১৬১৬। খ্রিষ্টাব্দে ‘দিনেমার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে। ১৬৭৬ সালে তারা কলকাতার শ্রীরামপুরে তাদের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপন করে। অন্যান্য ইউরোপীয়দের সাথে বাণিজ্যে সুবিধা না করতে পারায় তারা ১৮৪৫ সালে ইংরেজদের নিকট কুঠি বিক্রয়। করে উপমহাদেশ ছেড়ে চলে যায়।
ইংরেজদের আগমন
১৬০০ সালে ২১৭ জন অংশীদার নিয়ে ইংরেজদের ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠিত হয়। এই কোম্পানি রানি এলিজাবেথের নিকট হতে ভারতে বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করে। সম্রাট শাহজাহান ১৬৩৩ সালে ইংরেজদের বঙ্গদেশে কুঠি। নির্মাণের অনুমতি দেয়। ইংরেজরা “পিপিলাই” নামক গ্রামে বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ। করে। ১৬৯০ সালে জব চার্নক ভাগীরথী নদীর তীরে কলকাতা, সুতানুটি ও! গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রাম ক্রয় করে। ইংরেজরা এখানে একটি দুর্গ নির্মাণ করে এবং ১৭০০ সালে তাদের রাজা উইলিয়ামের নামানুসারে এর নাম রাখে ‘ফোর্ট উইলিয়াম’ দুর্গ। এই ফোর্ট উইলিয়ামকে কেন্দ্র করে ভারতে ব্রিটিশ শাসনের।ল সূত্রপাত হয়।
ফরাসিদের আগমন
১৬৬৪ সালে ফরাসি বণিকগণ ‘ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে উপমহাদেশে বাণিজ্য করতে আসে। ১৬৭৩ সালে মাদ্রাজের পণ্ডিচেরীতে তারা ঘাঁটি স্থাপন করে। বাংলায় তারা চন্দননগরে কুঠি স্থাপন করে। তারা বাণিজ্যে ইংরেজদের সাথে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে এবং উপমহাদেশে সাম্রাজ্য। বিস্তারের স্বপ্ন দেখে। ইংরেজরা ক্রমান্বয়ে উপমহাদেশের রাজনৈতিক আধিপত্য!
¡ কুক্ষিগত করে ফর্যাস ব্যাণজ্য ও সাম্রাজ্য প্রাতষ্ঠার সকল চেষ্টা ব্যথ করে দেয়। ১৭৫৬ সালে চতুর্থ কর্ণাটকের যুদ্ধে ফরাসিদের পরাজিত করে ইংরেজরা একক প্রভাব বিস্তার করে। ১৭৬০ সালে ‘বন্দীবাসের যুদ্ধে’ ইংরেজ সেনাপতি । আয়ারকুটের কাছে ফরাসি গভর্নর কাউন্ট লালী পরাজিত হলে ভারতবর্ষে ফরাসিরা ! সাম্রাজ্য স্থাপনের চিন্তা পরিত্যাগ করে উপমহাদেশ ত্যাগ করে।
বাংলায় ইংরেজ শাসন
১৬৯০: জব চার্নক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তরফে সুতানটি মৌজায় বাণিজ্যিক বসতি স্থাপনের জন্য বাদশাহি ফরমান লাভ করেন
১৭০০ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ‘ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ’ নির্মাণ করেন।
১৭৫৭২৩ জুন, পলাশির যুদ্ধে ইংরেজগণ জয়লাভ করে।
১৭৬০ চট্টগ্রাম, মেদিনীপুর ও বর্ধমান জেলা কোম্পানিকে হস্তান্তরের শর্তে মীর কাসিম নবাব হন।
১৭৬৪: বক্সারের যুদ্ধ। ইংরেজদের উৎখাত করার লক্ষ্যে মীর কাসিমের শেষ চেষ্টা। যুদ্ধে ইংরেজদের নিকট পরাজিত।
১৭৬৫: এলাহবাদ চুক্তির মাধ্যমে রবার্ট ক্লাইভের দেওয়ানি লাভ।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬৫ সালে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। লর্ড ক্লাইভ বাংলার নবাবের প্রকৃত শাসনক্ষমতা লোপ করে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বৃত্তির ব্যবস্থা করেন। এভাবে ইংরেজরা বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হয়। উপমহাদেশে বণিকদের আগমন
লর্ড ক্লাইভ (১৭৬৫-১৭৬৭)
বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর লর্ড ক্লাইভ বাংলার ! প্রকৃত প্রভু হয়ে বসেন। বক্সারের যুদ্ধে মীর কাশিমের পরাজয়ের পর লর্ড ক্লাইভ। ! বাংলার গভর্নর নিযুক্ত হন। তিনি ভারতবর্ষে ইংরেজ সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন। লর্ড ক্লাইভ বাংলায় দ্বৈত শাসনব্যবস্থা প্রচলন করেন। এর প্রভাব হিসেবে । পরবর্তীতে বাংলায় ‘ছিয়াত্তরের মন্বন্তর’ সংঘটিত হয়। লর্ড ক্লাইভ বাংলার প্রথম ব্রিটিশ গভর্নর।
