এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত স্থান
১. চীনের মহাপ্রাচীর: ঐতিহাসিক প্রাচীরটি চীনের হেরী প্রদেশ থেকে ৭. পর্বতাকীর্ণ অঞ্চল পেরিয়ে উগুরান গিরিপথ হয়ে গোবি মরুভূমিতে এসে শেষ হয়েছে। এটা পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি এবং পর্যটকদের নিকট
একটি দর্শনীয় স্থান।
২. তিয়েন আনমেন স্কয়ার: চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত ঐতিহাসিক স্থান। তিয়েন আনমেন শব্দের অর্থ চিরশান্তির তোরণ। এ স্কয়ারে দাড়িয়ে ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর মাও সে তুং চীনকে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করেন। এ স্কয়ারে ১৯৮৯ সালের জুন মাসে চীনা ছাত্ররা গণতন্ত্রের জন্য বিক্ষোভ শুরু করলে চীন সরকার সেই বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেন।
৩. মৌসিনরাম: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের মেঘালয় রাজ্যের খাসি (Khasi) পাহাড়ের ছোট একটি গ্রাম মৌসিনরাম (Mawsynram)। এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ বৃষ্টিবহুল স্থান (বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ৪৬৭ ইঞ্চি)।
৪. ভিক্টোরিয়া: হংকং এর রাজধানী। এটি পৃথিবীর একটি অন্যতম বৃহৎ বন্দর এবং বস্ত্র ও জাহাজ নির্মাণ শিল্পের জন্য বিখ্যাত।
৫. আভা: মিয়ানমারে অবস্থিত। প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের জন্য বিখ্যাত।
৬. জেরুজালেম: ইসরায়েলের রাজধানী। মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদি এ তিন ধর্মের মানুষের কাছে এটি পবিত্র নগরী নামে পরিচিত।
৭. স্বর্ণমন্দির: ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের অমৃতসর নগরীতে অবস্থিত শিখদের পবিত্র মন্দির। ১৯৪৮ সালে ভারতের ইন্দিরা সরকার স্বাধীনতাকামী শিখদের দমনের জন্য উক্ত মন্দিরে ‘ব্লু স্টার’ অভিযান প্রেরণ করেন। এর ফলে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
৮. আবাদান: ইরানের একটি তেলসমৃদ্ধ শহর। পৃথিবীর বৃহত্তম খনিজ তেলের শোধনাগার এখানে অবস্থিত।
৯. ম্যানিলা: ফিলিপাইনের রাজধানী, বৃহত্তম নগরী ও বন্দর। এখানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IRRI) প্রধান কার্যালয় অবস্থিত।
১০. সিরাজ: ইরানে অবস্থিত আতরের জন্য বিখ্যাত।
১১. ইস্পাহান: ইরানের প্রাচীন রাজধানী ও বাণিজ্য পথের সঙ্গমস্থল।
১২. ইস্তাম্বুল: এ শহরটি এশিয়া এবং ইউরোপ উভয় মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত। তুরস্কের প্রাচীন রাজধানী ও প্রাচীন নগরী। এর পূর্বনাম কনস্ট্যান্টিনোপল।
১৩. ইয়াকোহামা: জাপানের বৃহত্তম বন্দর, প্রসিদ্ধ বস্ত্র ও রেশম শিল্পকেন্দ্র
১৪. ক্যান্ডি: মধ্য শ্রীলংকার একটি প্রাচীন শহর। বৌদ্ধ মন্দিরের জন্য বিখ্যাত। এ মন্দিরে বুদ্ধের দাঁত রক্ষিত আছে। প্রাচীনকালে শ্রীলংকার রাজধানী ছিল।
১৫. হ্যানয়: ভিয়েতনামের রাজধানী ও প্রধান শহর।
১৬. ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান: ইরাকে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে নির্মিত ঝুলন্ত উদ্যান। এটি তৈরি করেন রাজা নেবুচাদনেজার।
১৭. শাখালিন: উত্তর-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। এখানে রাশিয়ার একটি সামরিক ঘাঁটি আছে।
১৮. সাইমেনজিআম সি ওয়াল: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রপ্রাচীর দক্ষিণ কোরিয়ার সাইমেনজিআম সি ওয়াল। ২৭ এপ্রিল ২০১০ এটি উদ্বোধন করা হয়। ৩৩ কিমি দীর্ঘ এ প্রাচীরের মাধ্যমে সমুদ্র থেকে আলাদা করে ফেলা হয়েছে ৪০১ বর্গ কি.মি. এলাকা।
১৯. সেকেন্দ্রা: মোঘল সম্রাট আকবরের সমাধি স্থান। ভারতের আগ্রায় অবস্থিত
২০. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ: প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়া জাপানের কাছ থেকে দখল করে।
২১. কুতুব মিনার: পুরাতন দিল্লিতে অবস্থিত। কুতুব উদ্দীন আইবেক নির্মিত ভারতের সর্বোচ্চ মিনার। ১২৩২ সালে এটি নির্মাণ করা হয়।
২২. পামির: মধ্য এশিয়ার একটি মালভূমি। একে পৃথিবীর ‘ছাদ’ বলা হয়।
২৩. কারবালা: ইরাকের ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রান্তর। এখানে দামেস্কের অধিপতি এজিদের সেনাবাহিনীর সাথে ধর্মযুদ্ধে হযরত মুহাম্মদ (স) এর দৌহিত্র ও হযরত আলী (রা)-এর কনিষ্ঠ পুত্র ইমাম হোসেন (রা) মর্মান্তিকভাবে শাহাদৎবরণ করেন।
২৪. তাজমহল: ভারতের আগ্রায় যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত মনোরম স্মৃতিস্তম্ভ। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার সহধর্মিণী মমতাজ মহলের সমাধির উপর ২২ হাজার লোকের ২৩ বছরের শ্রমের সাহায্যে এ সুরম্য স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করেন। এটি পৃথিবীর অন্যতম সপ্তাশ্চর্য।
২৫. আরাফাত: সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিকটে অবস্থিত এটি বিখ্যাত প্রান্তর। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স) আরাফাত প্রান্তরে দাঁড়িয়ে বিখ্যাত ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ দেন।
২৬. আল-আকসা মসজিদ: জেরুজালেমে অবস্থিত মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল জেরুজালেম দখল করার পর এই মসজিদটি দখলে নিয়ে নেয়।
২৭. বাবরি মসজিদ: এ ঐতিহাসিক মসজিদটি ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত। ষোড়শ শতকে মুঘল সম্রাট জহিরউদ্দীন মোহাম্মদ বাবর এটি নির্মাণ করেন। হিন্দু মৌলবাদীদের দাবি যে, মসজিদটি হিন্দু দেবতা রামের মন্দির ভেঙে নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদ হিন্দু চরমপন্থিদের দ্বারা বিধ্বস্ত হয়।
২৮. হেবরন মসজিদ: ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ। ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ এ মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ৬৩ জন মুসলমানকে গোল্ডস্টান বারুচ নামে একজন ইহুদি হত্যা করলে সমগ্র বিশ্ব নিন্দামুখর হয়ে ওঠে।
২৯. অনুরাধাপুর: শ্রীলংকার প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন শহর।
৩০. ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল: পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
৩২. পানমুনজাম গ্রাম: ১৯৫৩ সালের যুদ্ধের পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যবর্তী এ অসামরিক এলাকাটি গঠন করা হয়।
৩৩. ফতেহপুর সিক্রি: আগ্রা হতে ৪১ কিমি দূরে অবস্থিত একটি স্থান। এখানে সম্রাট আকবর একটি শহর নির্মাণ করেন।
৩৪. আরারাত:
তুরস্কের একটি পর্বত। মহাপ্লাবনের সময় হযরত নূহ (আ) এর নৌকা পর্বতশৃঙ্গে আটকে ছিল বলে অনুমান করা হয়।
৩৫. আদম ব্রিজ: শ্রীলংকা ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত কিছু ক্ষুদ্র দ্বীপ, রামেশ্বর দ্বীপ, মান্নার দ্বীপ প্রভৃতিকে একত্রে আদম ব্রিজ বা মানব সেতুবন্ধন বলা হয়।
৩৬. জেরিকো: জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরের শহর। শহরটির আয়তন আশেপাশের এলাকাসহ ৬০ বর্গ কিমি। সম্প্রতি এ শহরটিকে ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
৩৭. পশ্চিম তীর: জর্ডান নদীর তীরে একটি পার্বত্য সমভূমি অঞ্চল। ১৯৬৭সালে ইসরায়েল যুদ্ধে ইসরায়েল এ অঞ্চলটি দখল করেছিল। এশিয়া মহাদেশের বিখ্যাত স্থান
৩৮. গাজা: ইসরায়েল অধিকৃত একটি ফিলিস্তিনি উপত্যকা। ১৯৬৭ সালে ইসরায়েল এটি দখল করে নেয়। বর্তমান শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ফিলিস্তিনের স্বশাসন কর্তৃপক্ষের নিকট অর্পণ করা হয়েছে।
৩৯. শান্তি নিকেতন: পশ্চিম বঙ্গের বোলপুরে অবস্থিত কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক মহান ব্যক্তিত্ব এখানে পড়াশুনা করেছেন।
৪০. কাবা শরীফ: সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত মুসলমানদের পবিত্র মসজিদ। একে বায়তুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) বলা হয়।
৪১. সিনাই: মিশরের একটি বিখ্যাত মরু অঞ্চল। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল এলাকাটি দখল করেছিল। পরে শাস্তি চুক্তি অনুযায়ী মিশর এটি ফেরত পায়। ‘সিনাই’ লোহিত সাগরের উত্তরে অবস্থিত।
৪২. বেথেলহাম: জেরুজালেমের নিকট অবস্থিত। কুমারী মাতা মেরির গর্ভে যীশু খ্রিষ্ট জন্মগ্রহণ করেন। (ইসলাম ধর্মে তাঁকে ঈসা নবী (আ) বলা হয়)
৪৩. গোলান মালভূমি: সিরিয়া-ইসরায়েল সীমান্তবর্তী উচ্চ মালভূমি। ১৯৬৭ সালের ৩য় আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় সিরিয়া এটা ইসরায়েলের নিকট হারায়।
৪৪. মহেঞ্জোদারো: পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় অবস্থিত। এখানে প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতার অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।
৪৫. পলাশী: পশ্চিমবঙ্গের ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক প্রান্তর। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা এ স্থানে সংঘটিত যুদ্ধে পরাজিত হয়।
