পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস
শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দুটি এলাকা নিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা করে। দেশবিভাগের সময় আসাম হতে সিলেট জেলাকে পূর্ববঙ্গের সাথে যুক্ত করা হয় এবং ত্রিপুরা। রাজ্যের সাথে আসামের সংযোগ সাধনের জন্য সিলেট জেলার করিমগঞ্জ মহকুমার। বেশিরভাগ অংশ ভারতকে দেয়া হয়।
১৯৪৭: পাকিস্তানের স্বাধীনতা লাভ
জুলাই: ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট অ্যাক্ট’ পাস। এর মাধ্যমে ১৪ আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
আগস্ট ১৪: পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল
মধ্যরাত্রে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল পদ গ্রহণ। করেন। লিয়াকত আলী খান পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। পূর্ববাংলার। প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন খাজা নাজিমউদ্দীন। পূর্ব পাকিস্তান ২৪ বছর যাবৎ। পশ্চিম পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আগস্ট ১৭: র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ
স্যার সাইরিণ র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে গঠিত সীমানা কমিশনের সুপারিশ ‘র্যাডক্লিফ রোয়েদাদ’ মোতাবেক ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়।
১৯৪৮: বাংলা অন্যতম রাষ্ট্রভাষা পক্ষে প্রস্তাব
ফেব্রুয়ারি ২৩: পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা ভাষাকে।
অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের পক্ষে প্রস্তাব উত্থাপন। মার্চ ১১: উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দেয়ায় দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। মিছিল থেকে শেখ মুজিবুর রহমানসহ ডাকসু নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার হন। সেই থেকে এ দিনটি ‘রাষ্ট্রভাষা দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
মার্চ ২১: পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের। একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করেন।
মার্চ ২৪: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মি. জিন্নাহ পুনরায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে উপস্থিত ছাত্ররা এর তীব্র প্রতিবাদ করে।
১৯৪৯: আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন
জুন ২৩: নারায়ণগঞ্জে এক শ্রমিক সম্মেলনে ‘আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব বাংলায় এটিই ছিল প্রথম মুসলিম লীগ বিরোধী দল। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালের ২৪ অক্টোবর ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে নামকরণ করা। হয় ‘আওয়ামী লীগ’। এর মাধ্যমে সংগঠনটিকে অসাম্প্রদায়িক দল হিসেবে গড়ে তোলা হয়।
১৯৫০: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা ও পূর্ববঙ্গে জমিদারি প্রথা বিলোপ।
১৯৫৩: যুক্তফ্রন্ট গঠন
ডিসেম্বর ৩: বিরোধী দলগুলোর সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। বিরোধী দলগুলো হলো – আওয়ামী লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামী ও গণতন্ত্রী দল।
১৯৫৪: প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের জয়লাভ
মার্চ ১০: পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে।
এপ্রিল ৩: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠন।
মে ৩০: প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা বরখাস্ত।
১৯৫৬: পাকিস্তানে শাসনতন্ত্র প্রণয়ন
মার্চ ২৩: পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণীত। এ শাসনতন্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তান। ‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র’ নাম ধারণ করে। এর ফলে দুই প্রদেশের নামকরণ হয়। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ এবং ‘পশ্চিম পাকিস্তান’।
হক্কান্দার মিজা প্যাকস্তান হসলামা প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রোসডেন্ট নিযুক্ত হন।
মার্চ ২৪: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর নিযুক্ত।
১৯৫৭:
ফেব্রুয়ারি ৭: কাগমারী সম্মেলন
মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে টাঙ্গাইলের সন্তোষে কাগমারি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। এতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন ও বৈদেশিক নীতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সম্মেলনে মওলানা ভাসানী পাকিস্তানকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ জানানোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।
জুলাই ২৫: ন্যাশনাল আওয়ামী লীগ গঠন
মওলানা ভাসানী উভয়টির সভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৫৮: পাকিস্তানে সামরিক শাসন
অক্টোবর ৭: ইস্কান্দার মির্জা দেশে সামরিক আইন জারি করেন এবং আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিয়োগ করেন।
অক্টোবর ২৭: জেনারেল আইয়ুব খানের ক্ষমতা দখল।
১৯৬০:
মার্চ ২৩: আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
১৯৬১:
অক্টোবর ৭: মুসলিম পারিবারিক আইন জারি
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান “মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১” জারি করেন। জারিকৃত এই আইনে ১১টি ধারা রয়েছে। এ আইনে অরেজিস্ট্রিকৃত বিবাহসমূহ অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।
১৯৬২: মৌলিক গণতন্ত্র
মার্চ ১:মৌলিক গণতন্ত্র চালু। এ শাসনবিধানের লক্ষণীয় বিষয় ছিল শাসন ব্যবস্থায়
প্রেসিডেন্টের চিরস্থায়ীত্ব।
সারা পাকিস্তানী এ সময় ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী ভোটার ছিল যারা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতেন।
১৯৬৪:
মার্চ ২৯: প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের দাবিতে হরতাল পালিত।
১৯৬৫: প্রেসিডেন্ট নির্বাচন
জানুয়ারি ২: মিস ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে আইয়ুব খান নির্বাচিত হন।
সেপ্টেম্বর ৬: পাক-ভারত যুদ্ধ
কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ। ১৭ দিন স্থায়ী এ যুদ্ধ পরবর্তীতে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘটে। ১০ জানুয়ারি ১৯৬৬ উজবেকিস্তানের তাসখন্দে সোভিয়েত মধ্যস্থতায় পাক প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মধ্যে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এটি তাসখন্দ শান্তিচুক্তি নামে পরিচিত।
১৯৬৬: শেখ মুজিবের ছয় দফা উত্থাপন
ফ্রেব্রুয়ারি ৫: লাহোরে সম্মিলিত বিরোধী দলের সভায় শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা উত্থাপন করেন।
মার্চ ২৩: আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা প্রকাশ।
জানুয়ারি ১৮: এ দিন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নাম ছিল ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা বনাম শেখ মুজিব ও অন্যান্য’ মামলার মোট আসামী ছিল ৩৫ জন।
১৯৬৮: আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের
জুন ১৯: এ দিন ঢাকা সেনানিবাসে মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস
১৯৬৯: গণঅভুত্থান
ফেব্রুয়ারি ২২: গণঅভ্যুথানের মাধ্যমে শেখ মুজিবের মুক্তিলাভ।
ফেব্রুয়ারি ২৩: শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদান।
মার্চ ২৪: আইয়ুব খানের পদত্যাগ। ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর।
১৯৭০: নির্বাচনের ঘোষণা
মার্চ ২৮: প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ নীতির ভিত্তিতে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
মার্চ ৩০: নির্বাচনের ভিত্তি এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পাকিস্তানের সংবিধান রচনার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া আইনগত কাঠামো আদেশ জারি করেন।
পূর্ব পাকিস্তানের ইতিহাস
