নিরাপত্তা বেষ্টনিতে এনজিও সহযোগিতা
NGO Non-Government Organization বর্তমানে সাধারণভাবে। ‘বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা’ বলে পরিচিত। দারিদ্র্য বিমোচনে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি NGO সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। কারণ জীমিত সম্পদ দ্বারা বাংলাদেশে বিরাজমান অসংখ্য সামাজিক সমস্যার মোকাবেলা। করা সরকারের একার পক্ষে দুষ্কর। স্থানীয় সম্পদের সদ্ব্যবহার ও সমস্যাগুলো। স্থানীয় পর্যায়ে মোকাবেলার প্রয়োজনে NGO-সরকারি সংস্থার সম্পূরক হিসেবে! কাজ করে।
বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের দেশি বিদেশি বহু এনজিও তাদের সেবামূলক কার্যক্রম সম্পাদন করে আসছে। এনজিওগুলোর। কার্যাবলি ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এগুলো আমাদের দেশে প্রচুর! কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে। এদের দ্বারা জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ উপকৃত হচ্ছে।
এনজিও (NGO)-র সংজ্ঞা: বাংলাদেশে এনজিও টার্ম (Term) খুবই পরিচিত। এবং এদের কার্যক্রম সুবিস্তৃত। এনজিও কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বাংলাদেশের। সরকারি প্রশাসন বিশেষ নিয়মকানুন এবং নীতিমালা প্রয়োগ করে থাকে। কিন্তু! এখানে এনজিওর সংজ্ঞা দেয়া হয়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেমন-আমেরিকা, ব্রিটেনে এনজিও বলতে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়। সাধারণত এনজিও বলতে সাহায্য সরবরাহকারী বেসরকারি সংস্থাকে বোঝায়।
According to Social Science Dictionary “Non Governmental! Organization is a non-profit agency that serves public interest.! NGO is established to fulfill some social purposes other than monetary rewards to financial backets. Technically the term includes Government or Tax supported agencies, but it is usually i reserved for private, voluntary, social agencies and excludes for! profit proprietary social agencies”.
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় এনজিও হলো সে সকল বেসরকারি সংস্থা। যেগুলো উন্নয়নমূলক এবং কল্যাণমূলক কার্যাবলি সম্পাদনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
এনজিওর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য:
এনজিওগুলো বিভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে পরিচালিত হয়। যেমন।
১. গরীব এবং দুর্দশাগ্রস্থ লোকজনকে সাহায্য করা এবং নিজেদের সম্পদ! ব্যবহার করে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করা।
২. স্থানীয় নেতৃত্ব এবং native asset identify করে এগুলো সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে কল্যাণ এবং উন্নয়নে সহায়তা করা।
৩. গরীব এবং বঞ্চিতদের সাহায্যের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অগ্রগতি অর্জনে। সহায়তা করা।
৪. স্বাস্থ্য এবং পুষ্টির উন্নয়ন।
৫. সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে কিন্তু প্রতিযোগী হিসেবে নয়।
৬. সামাজিক সমস্যা জয়লাভ করতে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা।
৭. সমাজে ইতিবাচক আচরণ তৈরি করা এবং কুসংস্কার দূর করতে কাজ করা।
৮. নারীদের ঋণ প্রদানের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করা।
৯. পরিবর্তিত সামাজিক পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য লোকজনকে সাহায্য করা।
সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কার্যক্রমে এনজিওদের ভূমিকা:
এনজিওগুলো বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদনের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। ভূমিকা পালন করে থাকে। নিম্নে এগুলো তুলে ধরা হলো-
১. দারিদ্র্য দূরীকরণ: দারিদ্র্য দূর করা বাংলাদেশের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। দিনমজুর, রিকশা, ভ্যান চালক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক,।
প্রান্তিক কৃষকরা নিম্ন নারিন্য সীমার নিচে বসবাস করে। এনজিও এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো বাংলাদেশের দরিদ্রতা দূর করার জন্য বিভিন্ন কার্য চালিয়ে যাচ্ছে। পরীধদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে, দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে মানব সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য এনজিওগুলো কাজ করে যাচ্ছে।
২. কর্মসংস্থান তৈরি (Employment Generation): গ্রামীণ গরীব জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করছে এনজিওগুলো। প্রথমে এনজিওগুলো তাদের নিজ সংস্থায় লোকজন নিয়োগ করে কর্মসংস্থানের যোগান দেয়। দ্বিতীয়ত তারা ঋণ প্রদান করে এবং ব্যবস্থাপনামূলক সহায়তা করে অন্যদের কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করে। তারা এ লক্ষ্যে নিম্নের কার্যক্রমগুলো করে…
সেচ প্রকল্প
পুকুরে মৎস্য চাষ এবং উপকূলে মৎস্য শিকার।
ভূমিহীন কৃষকদের যন্ত্রপাতি দিয়ে সাহায্য করা।
মৌমাছি এবং রেশম, গুটিপোকার চাষ।
হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প প্রভৃতি।
নার্সারি (nursery) প্রকল্প।
প্রভৃতি প্রকল্পে এনজিও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে থাকে।
নারীদের ঋণ প্রদান করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তকরণ:
৩. বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী কিন্তু তারা এখনও মূলধারার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে পারেনি। এজন্য এনজিওগুলো পিছিয়ে পড়া নারীদের অবস্থার উন্নয়নের জন্য গুরুত্ব প্রদান করছে। বাংলাদেশের Bureau of NGO-এর তালিকাভুক্ত এনজিও গুলোর সিংহ ভাগ client (Population) নারী। ২০২২ সাল পর্যন্ত ব্র্যাক বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় ৮৭,৩১,৯৫৪ কোটি জনকে beneficiaries দের ৩,৮৭,৫৬৯.৮১ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করেছে। এর মধ্যে ৮৯% bene-ficiaries ছিল মহিলা। পল্লি কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন এর ৯২% নারী ঋণ গ্রহীতা রয়েছে। এনজিওগুলো নারীদের প্রতি যে গুরুত্ব প্রদান করেছে তা গ্রামীণ দারিদ্র্য দূর করা এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। নিরাপত্তা বেষ্টনিতে এনজিও সহযোগিতা
৪. ক্ষুদ্র ঋণ (Micro Credit): গ্রামীণ অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন একান্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশে বিভিন্ন এনজিওগুলো ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান করে গরীবদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে। গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের ব্যাপক বিস্তার এবং অগ্রগতির জন্য নোবেল পুরষ্কার অর্জন করেছে। তার ক্ষুদ্র ঋণের মডেল এখন সারা বিশ্বে অনুসরণ করা হচ্ছে। এই ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম সরকারও গ্রহণ করেছে। সরকার পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন এনজিওকে তাদের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য প্রচুর ঋণ প্রদান করেছে।
৫. স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সংক্রান্ত কার্যাবলি: বাংলাদেশের
গ্রামীণ জনগণের মধ্যে খাদ্য ও পুষ্টির অভাব প্রকট। বেশিরভাগ লোকস্বাস্থ্য এবং পুষ্টি সুবিধাসমূহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য এনজিওগুলো স্বাস্থ্য এবং পুষ্টি সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে। ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণ, ৬টি মারাত্মক রোগের টীকা, স্বাস্থ্য সচেতনতা সংক্রান্ত campaign, বিশুদ্ধ পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনা প্রভৃতি কার্যক্রম এনজিওগুলো পরিচালনা করছে।
৬. সরকারি মালিকানাধীন খাস জমিতে কৃষিকাজ এবং মৎস্যচাষের সুযোগ সৃষ্টি করতে সহায়তা করছে এনজিওগুলো। সরকারের খাস জমিগুলো এনজিওর সহায়তায় ভূমিহীন গরীব কৃষকরা ব্যবহার করছে। এনজিওগুলো গভীর, অগস্ত্রীর পানির কল স্থাপন করে, আর বীজ সরবরাহ করে সহায়তা করছে। এনজিওগুলো মৎস্য চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে।
৭. শিক্ষা কার্যক্রম: বাংলাদেশের বিভিন্ন দেশি বিদেশি এনজিও শিক্ষা বিস্তারে
কাজ করে যাচ্ছে। । গ্রামীণ অঞ্চলে স্কুল স্থাপন করে বিনা খরচে গরীব। ছেলেমেয়েদের শিক্ষা প্রদান করেছে। যেমন- ব্র্যাক স্কুল, আনন্দ স্কুল প্রভৃতি এর দ্বারা প্রচুর সংখ্যক গরীব শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
৮. ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসনমূলক কাজ: বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ হওয়ার ফলে প্রায় প্রতি বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জান মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বহুসংখ্যক এনজিও দুর্যোগকালে দুস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে তাদের কষ্ট। লাঘব করে থাকে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান প্রভৃতি সরবরাহের মাধ্যমে। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।
৯. কৃষি পদ্ধতির উন্নয়ন: বাংলাদেশের কৃষকরা কৃষিকাজে এখনও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার থেকে পিছিয়ে রয়েছে। বহু এনজিও রয়েছে যারা বড় বড় সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে ট্রাক্টর, পানির পাম্প, উন্নত মানের বীজ সার। সরবরাহের মাধ্যমে এবং কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করে তাদের। অবস্থার উন্নয়নে এবং কৃষি উৎপাদনে সহায়তা করছে।
পরিশেষে বলা যায় বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে এনজিওগুলো! উপরিউক্ত কার্যাবলি সম্পাদনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা স পালন করে যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনিতে এনজিও সহযোগিতা
