লোকসাহিত্য বাংলা সাহিত্যের এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ শাখা। এটি মূলত সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত সাহিত্যরূপ—যেখানে মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, বিশ্বাস, সংস্কার ও অভিজ্ঞতা সহজ ভাষায় প্রকাশ পায়। লোকসাহিত্য কোনো একক ব্যক্তির রচনা নয়; এটি একটি সমাজের সামষ্টিক সৃষ্টি। তাই লোকসাহিত্যের মধ্য দিয়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীবনধারা, সমাজব্যবস্থা ও সংস্কৃতির প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
লোকসাহিত্য কী?
লোকসাহিত্য বলতে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত উপকথা, কাহিনি, গান, প্রবাদ, ছড়া, ধাঁধা প্রভৃতিকে বোঝায়। আধুনিক যুগে লোকসাহিত্য লিখে সংরক্ষণের চেষ্টা দেখা গেলেও এর প্রকৃত রূপ মৌখিক ধারাতেই বিকশিত হয়েছে। লোকসাহিত্য কোনো নির্দিষ্ট লেখকের সৃষ্টি নয়; বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সমাজের মানুষের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা থেকে এটি গড়ে ওঠে।
লোকসাহিত্য কোনো অঞ্চলের মানুষের জীবনচর্চার আয়না। তাই অঞ্চলভেদে লোকসাহিত্যের ভাষা, বিষয় ও প্রকাশভঙ্গির ভিন্নতা দেখা যায়।
লোকসাহিত্যের শাখা-প্রশাখা
লোকসাহিত্য বিষয়বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি নানা শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত। এর প্রধান শাখাগুলো হলো—
- গীতিকা
- উপকথা
- রূপকথা
- লোকগান বা লোকগীতি
- প্রবাদ
- ধাঁধা
- ছড়া
আখ্যানমূলক লোকগীতি সাহিত্যকে গীতিকা বলা হয়। যেমন—
নাথগীতিকা, ময়মনসিংহ গীতিকা ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা।
লোকসাহিত্যের বিষয়বস্তু ও উপাদান
লোকসাহিত্যের বিষয়বস্তু অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। মানবজীবনের প্রায় সব দিকই লোকসাহিত্যের উপজীব্য হয়ে ওঠে। যেমন—
- মানুষের যাপিত জীবনের সুখ-দুঃখ
- আনন্দ-বেদনা
- সমাজ ও ইতিহাসের প্রতিফলন
- অতীত সমাজের চিন্তাভাবনা
- জীবনের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস
লোকসাহিত্যের উপাদানও বিচিত্র। জনশ্রুতি, গান, কথা, গীতিকা, গাথা, প্রবাদ, ছড়া, ধাঁধা—সব মিলিয়ে লোকসাহিত্য একটি বিস্তৃত ধারার নাম। লোকসাহিত্য হঠাৎ সৃষ্টি হয় না; দীর্ঘ সময়ের প্রবাহে কোনো ঘটনা বা কাহিনি সমাজে প্রচলিত হয়ে লোকসাহিত্যের মর্যাদা লাভ করে।
ময়মনসিংহ গীতিকা
ময়মনসিংহ গীতিকা বাংলা লোকসাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ। ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা দ্বিধাবিভক্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার পূর্বাংশ—নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিল-হাওড় ও নদ-নদী প্লাবিত বিস্তৃত ভাটি অঞ্চলের লোককবিদের রচিত আখ্যানমূলক কাহিনিকাব্যকে ময়মনসিংহ গীতিকা বলা হয়।
এই গীতিকাগুলো সংগ্রহ করেন চন্দ্রকুমার দে, এবং সম্পাদনা করেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন। ময়মনসিংহ গীতিকার দুটি বিখ্যাত পালা হলো—লোকসাহিত্য ধারণা শাখা
মহুয়া ও মলুয়া।
চন্দ্রকুমার দে ও দীনেশচন্দ্র সেনের অবদান
লোকসাহিত্য মূলত মৌখিক ধারায় বিকশিত। এই অমূল্য সাহিত্যকে লিখিত রূপে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে চন্দ্রকুমার দে ও দীনেশচন্দ্র সেনের অবদান অনস্বীকার্য।
চন্দ্রকুমার দে লোকসাহিত্যের বিভিন্ন শাখা—ছড়া, গান, কথা, গীতিকা, ধাঁধা, গাথা, প্রবাদ ইত্যাদি সংগ্রহ করে ১৯১৩ সালে প্রকাশ করেন। পরে দীনেশচন্দ্র সেন এসব উপাদান সংগ্রহে তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন। এগুলো রবীন্দ্রভবনে সম্পাদিত হয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত হয়।
দীনেশচন্দ্র সেন নিজেও কিছু গীতিকা সংগ্রহ করে ১৯২৬ সালে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে প্রকাশ করেন। এই দুই গবেষকের প্রচেষ্টায় বাংলা লোকসাহিত্যের বিশাল ভাণ্ডার সংরক্ষিত হয়েছে।
ছড়া: লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন
ছড়া লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। আদিমকাল থেকেই ছড়া মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত। ছড়ার বিষয়বস্তু অত্যন্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ। যেমন—
- ছেলেভুলানো ছড়া
- খেলাধুলার ছড়া
- কৃষি, প্রকৃতি, উৎসব, নীতি, ব্যবসা ও সামাজিক জীবনের ছড়া
একটি বিখ্যাত ছড়ার উদাহরণ—
ঘুম পাড়ানি মাসি পিসি মোদের বাড়ি এসো,
বাটা ভরা পান দেবে গাল ভরে খেও।
মাছ কাটালে গন্ধ দেবে কেমন মেঘে লেও,
শীতল পানি পেতে হবে ঘুম এসো।
লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম সৃষ্টি হলো ছড়া ও ধাঁধা।
ছড়া সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের মত
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছড়া সম্পর্কে বলেছেন—
“ছড়ার একটি স্বতন্ত্র রাজ্য আছে, সেখানে কোনো আইন-কানুন নেই।”
তিনি লোকছড়ার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করেছেন—
- ঘটনার ধারাবাহিকতা থাকে না
- ধ্বনিপ্রধান ও সুরপ্রধান
- রস ও চিন্তা আছে, কিন্তু উপদেশ নেই
- ছন্দ স্বাধীন ও প্রকৃত বাংলা ছন্দ
- সংক্ষিপ্ত ও অনেক সময় দুর্বোধ্য
উপকথা ও রূপকথা
উপকথা
পশু-পাখির চরিত্র অবলম্বনে গড়ে ওঠা কাহিনিকে উপকথা বলা হয়। উপকথার উদ্দেশ্য সাধারণত নীতি শিক্ষা ও কৌতুক সৃষ্টি। এখানে পশু-পাখির মাধ্যমে মানবচরিত্রের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।
রূপকথা
রূপকথা লোককথার অন্যতম প্রধান শাখা। এতে অলৌকিক ঘটনা, যাদু-মন্ত্র, অজানা দেশ-কাল ও রহস্যময় পরিবেশের অবতারণা করা হয়। বাস্তবতার সঙ্গে রূপকথার সরাসরি সম্পর্ক নেই।
‘ঠাকুরমার ঝুলি’ একটি বিখ্যাত রূপকথার সংকলন।
লোককথা
লোককথা হলো মুখগত বর্ণনামূলক কাহিনি যেখানে লোকিক ও অলৌকিক ঘটনা পাশাপাশি থাকে। এখানে—
- মানুষ, পশু-পাখি ও কীটপতঙ্গের পারস্পরিক সম্পর্ক
- নায়কের উত্থান-পতন
- খল চরিত্রের প্রভাব
- সহায়ক শক্তির ভূমিকা
ইত্যাদি উপাদান বিদ্যমান। রূপকথা লোককথার একটি প্রধান শ্রেণি। লোকসাহিত্য ধারণা শাখা
ময়মনসিংহ গীতিকার সম্পাদক ও সংগ্রাহক
- সংগ্রাহক: চন্দ্রকুমার দে
- সম্পাদক: দীনেশচন্দ্র সেন
- প্রকাশকাল: ১৯২৩
ময়মনসিংহ গীতিকার গীতিকাগুলো—
- মহুয়া
- মলুয়া
- চন্দ্রাবতী
- কমলা
- দেওয়ান ভাবনা
- দস্যু কেনারামের পালা
- রূপবতী
- কঙ্ক ও লীলা
- কাজলরেখা
- দেওয়ান মদিনা
মোট গীতিকা ১০টি।
মহুয়া ও দেওয়ান মদিনার চরিত্র
মহুয়া (দ্বিজ কানাই প্রণীত)
প্রধান চরিত্র—
- হুমরা
- মানিক
- মহুয়া
- নদের চাঁদ
- পালং
- সন্যাসী
- সওদাগার
দেওয়ান মদিনা (মনসুর ব্যাতি প্রণীত)
প্রধান চরিত্র—
- সোনাফর দেওয়ান
- আলাল
- দুলাল
- মদিনা
- সেকেন্দার
- সুরবজ
- মনিনা
- আমিনা লোকসাহিত্য ধারণা শাখা
লোকগীতি
লোকসাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো লোকগান বা লোকগীতি। লোকগীতি সাধারণত কোনো অজানা লোককবি কর্তৃক রচিত এবং মুখে মুখে গীত হয়ে এসেছে। লোকগীতিতে সাধারণত নির্দিষ্ট কাহিনি থাকে না; বরং বিশেষ ভাব প্রকাশ পায়।
অঞ্চলভেদে লোকগীতি
- পশ্চিমবঙ্গ: পটুয়া, ঝুমুর
- উত্তরবঙ্গ: ভাওয়াইয়া
- পূর্ববঙ্গ: জারি, ঘাটু
লোকগীতির বিষয়বস্তুও বৈচিত্র্যময়—কৃষ্ণলীলা, রামায়ণ, মনসামঙ্গল, প্রেম, প্রকৃতি ইত্যাদি।
উপসংহার
লোকসাহিত্য বাংলা সাহিত্যের শিকড়স্বরূপ। এটি সাধারণ মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও চেতনার পরিচয় বহন করে। বিশেষ করে ময়মনসিংহ গীতিকা বাংলা লোকসাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ, যেখানে ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনসংগ্রাম, প্রেম ও বেদনা শিল্পরূপ লাভ করেছে। চন্দ্রকুমার দে ও দীনেশচন্দ্র সেনের প্রচেষ্টায় এই সাহিত্যধারা আজও জীবন্ত। লোকসাহিত্য শুধু অতীতের স্মৃতি নয়—এটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক স্থায়ী ভিত্তি।
FAQ: লোকসাহিত্য (২৫টি)
১) লোকসাহিত্য কাকে বলে?
সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত উপকথা, কাহিনি, গান, ছড়া, প্রবাদ, ধাঁধা ইত্যাদির সমষ্টিকেই লোকসাহিত্য বলা হয়।
২) লোকসাহিত্য কি একক ব্যক্তির রচনা?
না, লোকসাহিত্য একটি সমাজের সামষ্টিক সৃষ্টি।
৩) লোকসাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
এটি মৌখিক ধারায় প্রচলিত এবং অঞ্চলভেদে ভিন্নতাসম্পন্ন।
৪) লোকসাহিত্য কীভাবে সৃষ্টি হয়?
দীর্ঘ সময় ধরে কোনো কাহিনি বা ঘটনা লোকসমাজে প্রচলিত হয়ে লোকসাহিত্যে পরিণত হয়।
৫) লোকসাহিত্যের প্রধান শাখাগুলো কী?
গীতিকা, উপকথা, রূপকথা, লোকগান, ছড়া, প্রবাদ ও ধাঁধা।
৬) গীতিকা কী?
আখ্যানমূলক লোকগীতিকে গীতিকা বলা হয়।
৭) নাথগীতিকা কোন ধারার অন্তর্গত?
গীতিকা ধারার।
৮) ময়মনসিংহ গীতিকা কোন অঞ্চলের লোকসাহিত্য?
বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার ভাটি অঞ্চলের।
৯) ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক কে?
চন্দ্রকুমার দে।
১০) ময়মনসিংহ গীতিকার সম্পাদক কে?
দীনেশচন্দ্র সেন।
১১) ময়মনসিংহ গীতিকা কবে প্রকাশিত হয়?
১৯২৩ সালে।
১২) ময়মনসিংহ গীতিকার মোট গীতিকা কয়টি?
১০টি।
১৩) লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কী?
ছড়া ও ধাঁধা।
১৪) ছড়া কাকে বলে?
যা মৌখিকভাবে আবৃত্তি করা হয় তাকে ছড়া বলা হয়।
১৫) ছড়ার বৈশিষ্ট্য কী?
ধ্বনিপ্রধান, সুরপ্রধান ও স্বাধীন ছন্দযুক্ত।
১৬) ছড়া সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন?
ছড়ার একটি স্বতন্ত্র রাজ্য আছে, যেখানে কোনো আইন-কানুন নেই।
১৭) উপকথা কাকে বলে?
পশু-পাখির চরিত্র অবলম্বনে নীতিমূলক কাহিনিকে উপকথা বলা হয়।
১৮) রূপকথার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?
অলৌকিকতা ও যাদু-মন্ত্রের ব্যবহার।
১৯) লোককথা কাকে বলে?
লোকিক ও অলৌকিক ঘটনার সমন্বয়ে গঠিত মৌখিক কাহিনিকে লোককথা বলা হয়।
২০) ‘ঠাকুরমার ঝুলি’ কী ধরনের সাহিত্য?
রূপকথা।
২১) লোকগীতি কী?
লোকসমাজে গীত হওয়ার উদ্দেশ্যে রচিত গানকে লোকগীতি বলা হয়।
২২) লোকগীতিতে কি কাহিনি থাকে?
সাধারণত থাকে না।
২৩) ভাওয়াইয়া কোন অঞ্চলের লোকগীতি?
উত্তরবঙ্গের।
২৪) জারি ও ঘাটু কোন অঞ্চলের লোকগীতি?
পূর্ববঙ্গের।
২৫) লোকসাহিত্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
কারণ এটি সাধারণ মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির প্রতিফলন।
MCQ
১) লোকসাহিত্য হলো—
A. লিখিত সাহিত্য
B. রাজসাহিত্য
C. মৌখিক সাহিত্য
D. আধুনিক সাহিত্য
উত্তর: C
২) লোকসাহিত্য মূলত—
A. একক কবির সৃষ্টি
B. সমাজের সামষ্টিক সৃষ্টি
C. রাজদরবারের সৃষ্টি
D. আধুনিক শিক্ষার ফল
উত্তর: B
৩) লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন—
A. গীতিকা
B. উপকথা
C. ছড়া
D. রূপকথা
উত্তর: C
৪) আখ্যানমূলক লোকগীতির নাম—
A. লোকগান
B. ছড়া
C. গীতিকা
D. প্রবাদ
✅ উত্তর: C
৫) ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রাহক—
A. দীনেশচন্দ্র সেন
B. চন্দ্রকুমার দে
C. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
D. সুকুমার সেন
উত্তর: B
৬) ময়মনসিংহ গীতিকার সম্পাদক—
A. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
B. চন্দ্রকুমার দে
C. দীনেশচন্দ্র সেন
D. বঙ্কিমচন্দ্র
উত্তর: C
৭) ময়মনসিংহ গীতিকা প্রকাশিত হয়—
A. ১৯১৩
B. ১৯২৩
C. ১৯২৬
D. ১৯৩০
উত্তর: B
৮) ময়মনসিংহ গীতিকার গীতিকা সংখ্যা—
A. ৮
B. ৯
C. ১০
D. ১২
উত্তর: C
৯) ‘মহুয়া’ কোন ধারার রচনা?
A. রূপকথা
B. গীতিকা
C. উপকথা
D. ছড়া
উত্তর: B
১০) লোকসাহিত্যের কোন শাখায় নীতি শিক্ষা দেওয়া হয়?
A. লোকগীতি
B. ছড়া
C. উপকথা
D. গীতিকা
উত্তর: C
১১) ‘ঠাকুরমার ঝুলি’—
A. উপকথা
B. লোকগীতি
C. রূপকথা
D. প্রবাদ
উত্তর: C
১২) ছড়ার প্রধান বৈশিষ্ট্য—
A. উপদেশমূলক
B. ধ্বনিপ্রধান
C. তত্ত্বপ্রধান
D. দীর্ঘ বর্ণনা
উত্তর: B
১৩) লোককথায় থাকে—
A. কেবল বাস্তবতা
B. কেবল অলৌকিকতা
C. লোকিক ও অলৌকিক উভয়ই
D. বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
উত্তর: C
১৪) ভাওয়াইয়া লোকগান কোন অঞ্চলের?
A. পশ্চিমবঙ্গ
B. উত্তরবঙ্গ
C. পূর্ববঙ্গ
D. দক্ষিণবঙ্গ
উত্তর: B
১৫) জারি গান কোন অঞ্চলের?
A. পশ্চিমবঙ্গ
B. উত্তরবঙ্গ
C. পূর্ববঙ্গ
D. মধ্যবঙ্গ
উত্তর: C
১৬) লোকগীতিতে সাধারণত থাকে—
A. পূর্ণ কাহিনি
B. ইতিহাস
C. বিশেষ ভাব
D. নাট্যরূপ
উত্তর: C
১৭) লোকসাহিত্যের ভাষা—
A. ক্লাসিকাল
B. লোকজ
C. সংস্কৃতনির্ভর
D. বিদেশি
উত্তর: B
১৮) লোকসাহিত্য সংরক্ষণে অবদান রাখেন—
A. দীনেশচন্দ্র সেন
B. চন্দ্রকুমার দে
C. উভয়েই
D. কেউ নন
উত্তর: C
১৯) গীতিকা হলো—
A. ছোট ছড়া
B. কাহিনিমূলক গান
C. উপদেশমূলক কাব্য
D. নাটক
উত্তর: B
২০) লোকসাহিত্য প্রধানত—
A. লিখিত
B. মুদ্রিত
C. মৌখিক
D. ডিজিটাল
উত্তর: C
Short Notes
১) লোকসাহিত্য
লোকসাহিত্য হলো সাধারণ মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত সাহিত্যরূপ। এটি সমাজের সামষ্টিক চেতনার প্রকাশ।
২) গীতিকা
আখ্যানমূলক লোকগীতিকে গীতিকা বলা হয়। এতে কাহিনি ও সংগীতের সমন্বয় থাকে।
৩) ময়মনসিংহ গীতিকা
বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভাটি এলাকার আখ্যানমূলক লোকগীতি হলো ময়মনসিংহ গীতিকা।
৪) ছড়া
ছড়া লোকসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন। এটি ধ্বনিপ্রধান ও সুরপ্রধান।
৫) উপকথা
পশু-পাখির মাধ্যমে নীতি শিক্ষা দেওয়া কাহিনিকে উপকথা বলা হয়।
৬) রূপকথা
অলৌকিক ঘটনা ও যাদু-মন্ত্রনির্ভর লোককাহিনিকে রূপকথা বলা হয়।
৭) লোকগীতি
লোকসমাজে গীত হওয়ার উদ্দেশ্যে রচিত গানই লোকগীতি।
৮) চন্দ্রকুমার দে
বাংলা লোকসাহিত্যের প্রধান সংগ্রাহক। ময়মনসিংহ গীতিকা সংগ্রহে তাঁর অবদান অপরিসীম।
৯) দীনেশচন্দ্র সেন
বাংলা লোকসাহিত্যের সম্পাদক ও গবেষক। ময়মনসিংহ ও পূর্ববঙ্গ গীতিকা সম্পাদনা করেন।
১০) ভাওয়াইয়া
উত্তরবঙ্গের একটি জনপ্রিয় লোকগীতি, যার বিষয় প্রেম ও বিরহ।
লোকসাহিত্য ধারণা শাখা
লোকসাহিত্য ধারণা শাখা
